বাংলাদেশ পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড
নিচে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম নিয়ে একটি বিস্তারিত, ওয়েবসাইটে প্রকাশযোগ্য বাংলা আর্টিকেল দিলাম। তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে লেখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড
বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট তৈরি, পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় আবেদন কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী রি-ইস্যুর জন্য অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদন করার ফলে ঘরে বসেই আবেদন ফর্ম পূরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, ফি পরিশোধ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে আবেদন ফর্মে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে এনরোলমেন্ট বা পাসপোর্ট পাওয়ার সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল অনুযায়ী, আবেদনকারীর তথ্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণের তথ্য অনুযায়ী দিতে হবে। বর্তমানে সরকারি নির্দেশনায় ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত কাগজপত্র সত্যায়ন বা আবেদন ফর্মের সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। E-Passport
এই আর্টিকেলে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করার নিয়ম, ফর্মের বিভিন্ন ঘর কীভাবে পূরণ করতে হবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্ট ফি, পেমেন্ট, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং সাধারণ ভুলগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
ই-পাসপোর্ট কী?
ই-পাসপোর্ট বা Electronic Passport হলো এমন একটি পাসপোর্ট যাতে ইলেকট্রনিক চিপ থাকে। এই চিপে পাসপোর্টধারীর পরিচয় ও বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে সরকারি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস নির্ধারিত হয়। সরকারি পোর্টালের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা হচ্ছে কি না এবং বর্তমান জেলার তথ্য নির্বাচন করতে বলা হয়। E-Passport
বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন কোথায় করবেন?
ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টাল ব্যবহার করা।
অফিসিয়াল পোর্টাল:
বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল
তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা দালালের মাধ্যমে আবেদন না করে নিজে সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ।
সরকারি ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে যে তথ্য সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একইভাবে পাসপোর্ট ফি কেবল অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করা উচিত। E-Passport
অনলাইন পাসপোর্ট আবেদন করার আগে কী কী প্রস্তুত রাখবেন?
অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র হাতের কাছে রাখলে ফর্ম পূরণ করা সহজ হয়।
সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখবেন:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version)
- আগের পাসপোর্ট, যদি থাকে
- নিজের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য
- পিতা ও মাতার নাম এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য
- স্বামী/স্ত্রীর তথ্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
- পেশার তথ্য
- জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য
- মোবাইল নম্বর
- ই-মেইল ঠিকানা
- সরকারি চাকরিজীবী হলে প্রযোজ্য GO/NOC বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র
আবেদন ফর্ম পূরণের সময় NID অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের সঙ্গে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন ফর্মের তথ্য NID অথবা BRC English Version অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। E-Passport
বয়স অনুযায়ী NID বা জন্মনিবন্ধনের নিয়ম
ই-পাসপোর্ট আবেদনে বয়স অনুযায়ী পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী:
- ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ ব্যবহার করা যায়।
- ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী আবেদনকারী NID অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে পারেন।
- ২০ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশি আবেদনকারীর জন্য NID আবশ্যক। তবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
- ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর NID না থাকলে পিতা অথবা মাতার NID নম্বর দিতে হবে। E-Passport
তবে আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।
ধাপে ধাপে ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করার নিয়ম
ধাপ ১: সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
e-Passport Online Registration Portal
এরপর নতুন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন শুরু করার অপশন নির্বাচন করতে হবে।
ধাপ ২: বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন কি না নির্বাচন
আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতে জানতে চাওয়া হবে আপনি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন কি না।
বাংলাদেশে অবস্থান করে আবেদন করলে বাংলাদেশে আবেদন করার অপশন নির্বাচন করতে হবে।
এরপর বর্তমান ঠিকানার জেলা এবং সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনকারীর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্ধারিত হয়। E-Passport
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপনার বর্তমান ঠিকানা যদি আগের পাসপোর্টের ঠিকানা থেকে পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তাহলে ই-পাসপোর্ট আবেদনে নতুন বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়। E-Passport
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
এরপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে।
এখানে সাধারণত নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, জাতীয়তা, লিঙ্গ ইত্যাদি তথ্য চাওয়া হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামের বানান।
আপনার NID বা জন্মনিবন্ধনে নাম যেভাবে লেখা আছে, আবেদন ফর্মেও সেভাবেই দেওয়া উচিত। নিজের ইচ্ছামতো নামের বানান পরিবর্তন করা উচিত নয়।
বিশেষ করে ইংরেজি নাম লেখার সময় NID/BRC-এর বানানের সঙ্গে মিল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ হিসেবে, NID-তে যদি আপনার নাম ইংরেজিতে "MD ABDUL KARIM" লেখা থাকে, তাহলে পাসপোর্ট ফর্মে নিজের মতো করে "MOHAMMAD ABDUL KERIM" লিখে দেওয়া উচিত নয়।
ধাপ ৪: পিতা-মাতার তথ্য পূরণ
এরপর পিতা ও মাতার নাম এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
এই তথ্যও NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
পিতা বা মাতার নামের বানান নিয়ে যদি NID, জন্মনিবন্ধন এবং অন্যান্য কাগজপত্রে পার্থক্য থাকে, তাহলে আবেদন করার আগে বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া ভালো।
বিশেষ করে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন, বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা অভিবাসনের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রথম আবেদনেই তথ্য সঠিক রাখা উচিত।
ধাপ ৫: বৈবাহিক তথ্য
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা নির্বাচন করতে হবে।
অবিবাহিত হলে Unmarried এবং বিবাহিত হলে Married নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনে স্বামী বা স্ত্রীর সম্পর্কিত তথ্য দিতে হতে পারে।
পূর্বের তথ্যের সঙ্গে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে থাকলে সর্বশেষ সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত। সরকারি FAQ অনুযায়ী বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সহায়ক নথি, যেমন Marriage Certificate, প্রয়োজন হতে পারে। E-Passport
ধাপ ৬: পেশার তথ্য পূরণ
আবেদনকারীর পেশা সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে।
চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষার্থী, গৃহিণী, সরকারি চাকরি ইত্যাদি যে অবস্থা প্রযোজ্য সেটি নির্বাচন করা উচিত।
পেশার তথ্য পরিবর্তন হয়ে থাকলে সর্বশেষ সঠিক তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেশা পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে Professional Certificate বা Student ID প্রয়োজন হতে পারে। E-Passport
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম থাকতে পারে। সরকারি ই-পাসপোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা অনলাইন আবেদনের সময় সাধারণ পাসপোর্ট হিসেবে আবেদন করেন এবং এনরোলমেন্টের সময় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Official Passport হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। E-Passport
ধাপ ৭: বর্তমান ঠিকানা পূরণ
পাসপোর্ট আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো বর্তমান ঠিকানা।
এখানে বর্তমানে আপনি যেখানে বসবাস করছেন সেই ঠিকানা সঠিকভাবে দিতে হবে।
সাধারণত বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, ডাকঘর, গ্রাম/রাস্তা ইত্যাদি তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
ঠিকানা দেওয়ার সময় NID-এর ঠিকানা এবং বর্তমান বসবাসের ঠিকানার পার্থক্য থাকলে কোন ঘরে কোন তথ্য দিতে হবে তা ফর্মের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে।
বর্তমান ঠিকানা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হতে পারে। E-Passport
ধাপ ৮: স্থায়ী ঠিকানা পূরণ
এরপর স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে।
বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা একই হলে প্রযোজ্য অপশন নির্বাচন করা যায়।
দুই ঠিকানা আলাদা হলে আলাদাভাবে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
ঠিকানা লেখার সময় বানান এবং উপজেলা/থানার নাম ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
ধাপ ৯: জরুরি যোগাযোগের তথ্য
পাসপোর্ট ফর্মে Emergency Contact বা জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য চাওয়া হতে পারে।
এখানে এমন একজন ব্যক্তির তথ্য দেওয়া উচিত যার সঙ্গে প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব।
নাম, সম্পর্ক, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর দেওয়ার সময় সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।
ভুল মোবাইল নম্বর দেওয়া হলে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের সমস্যা হতে পারে।
ধাপ ১০: পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য
আপনি যদি আগে পাসপোর্ট নিয়ে থাকেন এবং সেটি পুনরায় ইস্যু বা রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করেন, তাহলে পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে।
পুরোনো পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তথ্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ফর্মে দিতে হতে পারে।
রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসে আগের পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হয়। সরকারি নির্দেশনায় আগের পাসপোর্টের মূল কপি এবং ডাটা পেজের প্রিন্ট কপি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। E-Passport
ধাপ ১১: পাসপোর্টের ধরন, পৃষ্ঠা ও মেয়াদ নির্বাচন
আবেদন ফর্মে পাসপোর্টের ধরন, পৃষ্ঠার সংখ্যা এবং মেয়াদ নির্বাচন করার অপশন থাকতে পারে।
এখানে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অপশন নির্বাচন করতে হবে।
পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠার সংখ্যা অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে নিয়মিত ও জরুরি ডেলিভারির ক্ষেত্রে ফি আলাদা হতে পারে।
ধাপ ১২: পাসপোর্ট ডেলিভারি ও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য
আবেদন প্রক্রিয়ায় সাধারণত পাসপোর্টের ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করার সুযোগ থাকে।
সরকারি পোর্টালে বর্তমানে প্রদর্শিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে সঠিক তথ্যসহ জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা এবং নিয়মিত আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা সময়সীমা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে জরুরি পাসপোর্টের জন্য ৭ কর্মদিবস এবং নিয়মিত পাসপোর্টের জন্য ১৫ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে সময় পরিবর্তিত হতে পারে। E-Passport
ধাপ ১৩: আবেদন ফর্ম সাবমিট করার আগে তথ্য যাচাই
ফর্ম পূরণ শেষ হলে সরাসরি Submit না করে প্রতিটি তথ্য আবার যাচাই করুন।
বিশেষভাবে নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করুন:
- নামের বানান
- জন্মতারিখ
- জন্মস্থান
- NID নম্বর
- জন্মনিবন্ধন নম্বর
- পিতা-মাতার নাম
- বৈবাহিক অবস্থা
- পেশা
- বর্তমান ঠিকানা
- স্থায়ী ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর
- ই-মেইল
- পূর্ববর্তী পাসপোর্টের নম্বর
- জরুরি যোগাযোগের তথ্য
মনে রাখতে হবে, ই-পাসপোর্ট ফর্মে ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর বিষয়। সরকারি আবেদন ফর্মেও উল্লেখ করা হয়েছে যে ফর্মের প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা NID/Birth Registration Certificate অনুযায়ী পূরণ করতে হবে এবং ভুল তথ্যের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা হতে পারে। E-Passport
ই-পাসপোর্টের ফি কীভাবে পরিশোধ করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা।
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল অনুযায়ী বর্তমানে অনলাইন পেমেন্টের জন্য A-Challan, DGePay এবং ShurjoPay-এর মাধ্যমে বিভিন্ন অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যাংকের মাধ্যমে অফলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থাও রয়েছে। E-Passport
অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে কার্ড বা অনুমোদিত মোবাইল/ব্যাংকিং পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি এবং পেমেন্ট অপশন যাচাই করুন।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত নম্বর বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাসপোর্ট ফি পাঠাতে বলে, তাহলে সতর্ক থাকুন।
আবেদন সাবমিট করার পর কী করবেন?
অনলাইন আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হলে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
বিশেষ করে:
- Application Summary
- Application Form
- Appointment তথ্য
- Payment Slip
- Application/Registration ID
ইত্যাদির প্রিন্ট বা PDF কপি সংরক্ষণ করা ভালো।
পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের সময় আবেদনপত্রের সারাংশ, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রযোজ্য কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হয়। সরকারি পোর্টালের ডকুমেন্ট তালিকায় Printed Application Summary, NID/Birth Certificate, Payment Slip (অফলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে), Previous Passport এবং GO/NOC-সহ প্রয়োজনীয় নথি উল্লেখ রয়েছে। E-Passport
পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট
অনলাইন আবেদন শেষ করলেই পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যায় না।
আবেদনকারীর নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়।
এ সময় সাধারণত আবেদনকারীর:
- ছবি
- আঙুলের ছাপ
- আইরিস/চোখের বায়োমেট্রিক
- স্বাক্ষর
ইত্যাদি নেওয়া হতে পারে।
ই-পাসপোর্টের ছবি সাধারণত পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের সময় ডিজিটাল ক্যামেরায় নেওয়া হয়। তাই সাধারণ আবেদনকারীর অনলাইন ফর্মের সঙ্গে আলাদা ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। E-Passport
তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য 3R সাইজের ছবি প্রয়োজন হতে পারে এবং বয়সভেদে পিতা-মাতার ছবিও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই শিশুর আবেদন হলে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা দেখে কাগজপত্র প্রস্তুত করা উচিত। E-Passport+1
পাসপোর্ট অফিসে কী কী কাগজপত্র নিতে হবে?
সাধারণ আবেদনকারীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে থাকতে পারে:
- অনলাইন আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি
- Application Summary
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট তথ্য, যদি প্রযোজ্য হয়
- মূল NID
- অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ
- পেমেন্ট স্লিপ, যদি অফলাইন পেমেন্ট করা হয়ে থাকে
- পূর্ববর্তী পাসপোর্ট, যদি থাকে
- সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে GO/NOC, যদি প্রযোজ্য হয়
- তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের সাম্প্রতিক ডকুমেন্ট তালিকাতেও এসব নথি উল্লেখ রয়েছে। E-Passport
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন?
পুরোনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বিষয়টি আলাদা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা উচিত।
পরবর্তী পাসপোর্ট আবেদনের সময় পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি এবং GD-এর কপি প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি ই-পাসপোর্ট নির্দেশনাতেও হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে GD-এর কপি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। E-Passport
পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন হলে কী করবেন?
অনেক সময় পুরোনো পাসপোর্টের তথ্যের তুলনায় বর্তমান তথ্য পরিবর্তিত হয়।
যেমন:
- বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন
- পেশা পরিবর্তন
- বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন
- নাম পরিবর্তন
- জন্মতারিখ বা জন্মস্থানের তথ্য সংশোধন
এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ সঠিক তথ্য দিতে হবে।
তবে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, পিতা বা মাতার নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি FAQ-তে এ ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে NID/BRC, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথির কথা বলা হয়েছে। E-Passport
আবেদন ফর্মে যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
ই-পাসপোর্ট আবেদন করার সময় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
১. নামের বানান ভুল
NID বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিল না রেখে নাম লেখা একটি সাধারণ ভুল।
২. জন্মতারিখ ভুল দেওয়া
জন্মতারিখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ভুল NID নম্বর
NID নম্বর দেওয়ার সময় একটি সংখ্যাও ভুল হলে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
৪. বর্তমান ঠিকানা ভুল নির্বাচন
বর্তমান ঠিকানা ভুল দিলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস নির্ধারণেও সমস্যা হতে পারে।
৫. পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য ভুল
রি-ইস্যুর সময় আগের পাসপোর্টের তথ্য সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে।
৬. মোবাইল নম্বর ভুল
আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের জন্য সঠিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা উচিত।
৭. দালালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা
অনলাইনে নিজে আবেদন করা সম্ভব হলে অপ্রয়োজনে অন্য কাউকে টাকা দিয়ে আবেদন করানোর প্রয়োজন নেই।
অনলাইন আবেদন করার সময় নিরাপত্তা সতর্কতা
পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। তাই অনলাইনে আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
পাসওয়ার্ড বা OTP অন্য কাউকে দেবেন না।
কোনো অপরিচিত ব্যক্তি SMS-এ পাঠানো লিংকে ক্লিক করতে বললে সতর্ক থাকুন। সরকারি ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা SMS-এর মাধ্যমে লিংক পাঠায় না। অফিসিয়াল e-Passport SMS "EPASSPORTBD" sender name থেকে পাঠানো হয় বলে সরকারি সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। E-Passport
ই-পাসপোর্ট আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ চেকলিস্ট
আবেদন সাবমিট করার আগে নিচের তালিকাটি মিলিয়ে নিতে পারেন:
- NID/BRC-এর তথ্য হাতে আছে
- নামের বানান যাচাই করা হয়েছে
- জন্মতারিখ যাচাই করা হয়েছে
- পিতা-মাতার নাম যাচাই করা হয়েছে
- বর্তমান ঠিকানা সঠিক
- স্থায়ী ঠিকানা সঠিক
- পেশার তথ্য সঠিক
- মোবাইল নম্বর সঠিক
- জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঠিক
- পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য সঠিক
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত
- পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ নির্বাচন করা হয়েছে
- সঠিক ফি যাচাই করা হয়েছে
- পেমেন্ট সফল হয়েছে
- Application Summary সংরক্ষণ করা হয়েছে
- Application Form প্রিন্ট/সংরক্ষণ করা হয়েছে
- Appointment তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে
- পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র প্রস্তুত
ই-পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায় কি?
হ্যাঁ। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে করা যায়। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। E-Passport
ই-পাসপোর্টের ফর্মে ছবি দিতে হয় কি?
সাধারণ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইন ফর্মের সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের সময় ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি নেওয়া হয়। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। E-Passport
আবেদন ফর্ম কি সত্যায়ন করতে হয়?
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। E-Passport
MRP ফর্ম দিয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে?
না। ই-পাসপোর্টের জন্য ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে। সরকারি FAQ অনুযায়ী MRP আবেদন ফর্ম ব্যবহার করে e-Passport-এর আবেদন করা যায় না। E-Passport
পাসপোর্ট রি-ইস্যুর সময় পুরোনো পাসপোর্ট লাগবে কি?
হ্যাঁ, রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট সাধারণত প্রদর্শন করতে হয়। সরকারি ডকুমেন্ট তালিকাতেও Previous Passport উল্লেখ করা হয়েছে। E-Passport
পাসপোর্ট আবেদনে বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ। আগের পাসপোর্টের তুলনায় বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তিত হলে আবেদন ফর্মে নতুন বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। সেই ঠিকানার ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাসপোর্ট অফিস নির্ধারিত হয়। E-Passport
উপসংহার
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। তবে সহজ হলেও ফর্ম পূরণের সময় সামান্য ভুলও পরবর্তীতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই NID অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য সামনে রেখে ধাপে ধাপে আবেদন ফর্ম পূরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, NID নম্বর, পিতা-মাতার নাম এবং ঠিকানা দেওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। আবেদন সাবমিট করার আগে পুরো ফর্ম অন্তত একবার ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
এছাড়া পাসপোর্টের ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ডেলিভারি সময় এবং আবেদন সংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
সবশেষে মনে রাখবেন, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করবেন না এবং OTP, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অপরিচিত কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
এই লেখাটি চাইলে আমি SEO-friendly 3000+ words ব্লগ পোস্ট, Google Discover উপযোগী আর্টিকেল, অথবা “পাসপোর্ট আবেদন ফর্মের কোন ঘরে কী লিখবেন” উদাহরণসহ আরও বিস্তারিত ভার্সন হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url