বাড়ির পাশে কদম গাছে বসে কত টিয়া

 বিকেলের নরম সোনাঝরা রোদ এসে পড়েছে গাঁয়ের ছোট্ট মাটির উঠানটিতে। বাঁশঝাড়ের পাতা বেয়ে মিষ্টি হাওয়া বইছে, আর সেই হাওয়ায় ভেসে আসছে পাশের দিগন্তবিস্তারী সবুজ ধানের খেতের তাজা ঘাস আর মাটির সোঁদা গন্ধ।

উঠানের এককোণে কাঠের পিঁড়িতে বসেছেন রহিমা বেগম। তাঁর সামনে ধারালো বঁটি, আর পাশে রাখা অ্যালুমিনিয়ামের গামলায় তাজা কিছু রুই ও কাতলা মাছ। পরম যত্নে তিনি মাছ আঁশ ছাড়িয়ে কাটছেন। কাজের মাঝেই তাঁর মুখে এক চিলতে শান্তির হাসি। পাশেই অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে আছে পাড়ার পোষা বিড়াল ‘টুসি’। রহিমা বেগম মাছের পিত্তি বা কানকো ছাড়িয়ে ফেললেই টুসি একটা মৃদু মেউ শব্দ করে উঠছে, যেন বঁটির প্রতিটি টানে তার দৃষ্টি আরও প্রখর হয়ে উঠছে। রহিমা বেগম হেসে উঠে বিড়ালটির দিকে মাছের একটা ছোট টুকরো ফেলে দিয়ে বললেন, "দাঁড়া বাপু, ধৈর্য ধর! সব কি আর একবারে পাবি?"

উঠানের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় মেতে আছে তাঁর দুই সন্তান—আট বছরের আরিফ আর ছয় বছরের আয়শা। তাদের হাতে কোনো দামি প্লাস্টিকের খেলনা নেই, কিন্তু আনন্দের কোনো খামতি নেই। উঠানের ঝরে পড়া শুকনো আমপাতা আর মাটি দিয়ে তারা বানিয়ে চলেছে ছোট ছোট ঘর আর রান্নাবাটির খেলা। আরিফ মাটি চটকে পিঠা বানাচ্ছে, আর আয়শা গাছের পাতায় করে তা কাল্পনিক অতিথিদের পরিবেশন করার অভিনয় করছে। তাদের খিলখিল হাসির শব্দে পুরো উঠানটা যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

উঠানের একেবারে পাশ ঘেঁষেই রয়েছে শান্ত টলটলে জলের পুকুরটি। পুকুরের জলে বিকেলের আলো পড়ে ঝিলমিল করছে। গুটিকয়েক হাঁস শান্তভাবে সাঁতার কেটে চলেছে, মাঝে মাঝেই ডুব দিয়ে জলজ পোকা ধরে আনছে। পুকুরপাড়ের ঢালু জায়গা থেকেই শুরু হয়েছে সীমাহীন ধানের জমি। বাতাসের দোলায় ধানের সবুজ পাতাগুলো যেন ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে একের পর এক।

মাছ কাটা শেষে রহিমা বেগম হাত ধুয়ে সন্তানদের দিকে তাকালেন। গ্রামীণ জীবনের এই সহজ-সরল রূপটিতে কোনো কৃত্রিমতা নেই, নেই কোনো ব্যস্ত শহরের কোলাহল। আছে কেবল এক অপূর্ব প্রশান্তি, পরম মমতায় ঘেরা একটি বিকেল আর পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসা।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url